আধুনিক-যুগ পত্র-পত্রিকা সাহিত্য-টীকা-আধুনিক

মাসিক পত্রিকা 1854

মাসিক পত্রিকা ১৮৫৪

 

প্রকাশকাল/আবির্ভাব

১৮৫৪ সালের ১৬ই আগস্ট ‘মাসিক পত্রিকা’র আত্মপ্রকাশ। 

সম্পাদক/পরিচিতি

রাধানাথ শিকদার ও প্যারীচাঁদ মিত্র-র উদ্যোগে কলকাতায় মাসিক পত্রিকা নামে ক্ষুদ্র পত্রিকা প্রকাশিত হয়।

লক্ষ্য/উদ্দেশ্য

‘মাসিক পত্রিকার প্রধান লক্ষ্য ছিল ভাষাকে সংস্কৃত আনুগত্য থেকে মুক্ত করা, স্ত্রী সমাজ ও বালকদের বোধগম্য করে তোলা। এছাড়া রাধানাথ সহজ সরল বাংলা ভাষার পক্ষপাতী। অক্ষয়কুমারের গদ্য ভাষা ও বিদ্যাসাগরী ভাষা তাঁর পছন্দ ছিল না। অন্যদিকে রাধানাথ প্যারীচাঁদকে অনুপ্রাণিত করেন মহিলাদের বোধগম্য ভাষায় বাংলা লিখতে। তাই শিবনাথ শাস্ত্রী লিখেছেন—“সরল স্ত্রীপাঠ্য ভাষাতে বাঙ্গালা লেখা রাধানাথের একটি বাতিকের মত হইয়া উঠিয়াছিল।” 

আরো পড়ুন--  আনন্দমঠ 1882, উপন্যাস, বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়

লেখকগোষ্ঠী

রাধানাথ শিকদার, প্যারীচাঁদ মিত্র প্রমুখ।

 

অবদান/গুরুত্ব

(ক) মাসিক পত্রিকার সঙ্গে প্যারীচাঁদ মিত্র ওরফে টেকচাঁদ ঠাকুরের “আলালের ঘরের দুলাল’ (১৮৫৮ খ্রিঃ) উপন্যাসধর্মী রচনার সাদৃশ্য রয়েছে। 

(খ) মাসিক পত্রিকার সংখ্যায় ‘আলালের ঘরের দুলাল’ প্রকাশিত হয়েছিল। 

(গ) বাংলা সাহিত্যের আখ্যানধর্মী রচনার সূত্রপাতও ‘মাসিক পত্রিকা’র মাধ্যমে।

(ঘ) মহিলাদের সুখপাঠ্য মাসিক কাগজ হিসাবে ‘মাসিক পত্রিকা’র অবদান অগ্রগণ্য। 

আরো পড়ুন--  আলমগীর নাটক 1921, ক্ষীরোদপ্রসাদ বিদ্যাবিনোদ

(ঙ) স্ত্রীলোক এবং শিশুদের শিক্ষাদান ও সমস্যা সম্পর্কে প্রথম আলোচনার সূচনা করে এই পত্রিকা। 

(চ) ব্রাহ্ম ধর্মের আদর্শ, সুশিক্ষা ও সুনীতি প্রচারের ক্ষেত্রে এই পত্রিকার ভূমিকা সমকালীন সমাজ ও সংস্কৃতিতে স্মরণীয়।

 

 

 

Similar Posts

  • আধুনিক-যুগ · গদ্যের-সূচনা

    উইলিয়াম কেরি (১৭৬১ – ১৮৩৪)

    উইলিয়াম কেরি (১৭৬১ – ১৮৩৪) বাংলা গদ্য সাহিত্যের ইতিহাসে কেরী সাহেবের অবদান বিশেষ উল্লেখযোগ্য। প্রথমে বাংলা গদ্য ভাষার চর্চা ধর্ম-প্রচারকরূপ লক্ষ্যের উপায় হিসেবে তিনি প্রহণ করেছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত উপায়ের গৌণ ভূমিকায় না থেকে লক্ষ্যের মুখ্য ভূমিকা সে অধিকার করে বসল। শ্রীরামপুর থেকে কেরি আগেই বাইবেলের বঙ্গানুবাদ প্রকাশ করেছিলেন। ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের বিভাগীয় প্রধান রূপে তিনি…

  • আধুনিক-যুগ · পত্র-পত্রিকা · সাহিত্য-টীকা-আধুনিক

    সোমপ্রকাশ পত্রিকা 1858

    সোমপ্রকাশ পত্রিকা ১৮৫৮       সোমপ্রকাশ আবির্ভাব :  ১৮৫৮ খ্রিস্টাব্দের ১৫ই নভেম্বর এই পত্রিকা সাপ্তাহিক পত্রিকা হিসাবে প্রথম আত্মপ্রকাশ করে।   পরিচিতি :  দ্বারকানাথ বিদ্যাভূষণের সম্পাদনায় সোমপ্রকাশ পত্রিকা প্রথম প্রকাশিত হয়। তারপর মোহনলাল বিদ্যাবাগীশের হাতে সম্পাদনার ভার দেন এবং শেষের দিকে তাঁর পুত্র উপেন্দ্রকুমার “নবপর্যায় সোমপ্রকাশ” সম্পাদনা করতেন। মাঝে কাবুলে ব্রিটিশ নীতির বিরুদ্ধাচরণ করার…

  • সাহিত্য-টীকা-আধুনিক · কথাসাহিত্য

    অশনি সংকেত ১৯৫৯ খ্রি.

    অশনি সংকেত (১৯৫৯ খ্রিঃ) লেখক = বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়। সংরূপ = উপন্যাস। মূল বিষয় = ১৩৫০-এর মন্বন্তরে শহর থেকে দূরে গ্রামাঞ্চলের মানুষের অবর্ণনীয় দুঃখ, দুর্দশা ও লাঞ্ছনার বাস্তব চিত্র পরিস্ফুটিত হয়েছে। বিশেষ দিক > তেরশ পঞ্চাশের মন্বন্তরের পটভূমিকায় গ্রন্থটি রচিত হলেও লেখকের মৃত্যুর পর ১৯৫৯ খ্রিস্টাব্দে তা গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়। ১৩৫০ থেকে ১৩৫২ সাল পর্যন্ত ‘মাতৃভূমি’…

  • মঙ্গলকাব্য · সাহিত্য-টীকা-মধ্যযুগ

    বারমাস্যা বা বারমাসী

    বারমাস্যা বা বারমাসী   ‘বারমাস্যা’ বা ‘বারমাসী’ কথাটির অর্থ বারো মাস, অর্থাৎ একটা গোটা বৎসরের বিবরণ। প্রাচীন সাহিত্য বা মধ্যযুগের বাংলা কাব্যে লৌকিক কাহিনী বর্ণনায় নায়ক-নায়িকার বারো মাসের সুখ-দুঃখের বিবরণ আছে। মঙ্গলকাব্যে এটি এক বিশেষ লক্ষণ বা রীতি হয়ে উঠেছে। ‘বারমাসী’ কবিতাগুলির বৈশিষ্ট্য হল : (১) বারো মাস এবং ছয় ঋতুর আবর্তনের মধ্য দিয়ে মানবচিত্তের…

  • কথাসাহিত্য · সাহিত্য-টীকা-আধুনিক

    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘কালান্তর’ 1956

    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘কালান্তর’ 1956: তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘কালান্তর’ (১৯৫৬) উপন্যাসটি বাংলা সাহিত্যের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সৃষ্টি। রবীন্দ্রনাথের ‘কালান্তর’ যেখানে ছিল প্রবন্ধ সংকলন, তারাশঙ্করের ‘কালান্তর’ সেখানে একটি আত্মজৈবনিক উপন্যাস, যা ব্যক্তি ও সমাজের পরিবর্তনের এক কালানুক্রমিক দলিল। তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘কালান্তর’ 1956 : অবক্ষয়িত গ্রাম ও ব্যক্তি-জীবনের সন্ধিক্ষণ ## উপন্যাসের পটভূমি ও চরিত্রায়ন তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর নিজের জীবনের…

  • আধুনিক-যুগ · পত্র-পত্রিকা · সাহিত্য-টীকা-আধুনিক

    সবুজ পত্র 1914

    সবুজ পত্র ১৯১৪   আবির্ভাব ১৯১৪ খ্রিস্টাব্দে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় ইউরোপে ভ্রমণ শেষে রবীন্দ্রনাথের আশাবাদী-কল্যাণবাদী মন যুদ্ধের মধ্যেই প্রত্যাশা করেছিলেন শুভ প্রভাতের সম্ভাবনা। যুদ্ধ তাঁর কাছে জড়তা ও অশুভ অন্ধকার থেকে মুক্তির বার্তা নিয়ে এসেছিল। রবীন্দ্রনাথ ইউরোপ-আমেরিকা ভ্রমণপর্বে ‘গীতাগুলি’র (১৯১০ খ্রিঃ) বাণী ও ভারতীয় অধ্যাত্মবাদের বার্তা পৌঁছে দিয়েছেন। তাই রবীন্দ্রনাথ তাঁর ‘সাধনা’ প্রকাশের মতোই প্রমথ…