আধুনিক-যুগ নাটক প্রহসন সাহিত্য টীকা সাহিত্য-টীকা-আধুনিক

আলালের ঘরের দুলাল 1858, প্যারীচাঁদ মিত্র 

আলালের ঘরের দুলাল 1858 : প্যারিচাঁদ মিত্রের আলালের ঘরের দুলাল নামক নকশাধর্মী রচনাটি অনেকক্ষেত্রেই বাংলায় রচিত প্রথম উপন্যাস হিসেবে পরিগণিত হয়। যদিও সার্থক উপন্যাস হিসেবে এটিকে গ্রহণ করা যায় না।

আলালের ঘরের দুলাল 1858 (১৮৫৮ খ্রি:), প্যারীচাঁদ মিত্র 


  • নক্সা জাতীয় উপন্যাসধর্মী রচনা /সামাজিক নকশা। 

বিভিন্ন পরিচয়

  • ক.  ব্রজেন্দ্রনাথ বন্দোপাধ্যায় সাহিত্য সাধক চরিতমালায় একে উপন্যাস রূপে চিত্রিত করেছেন।
  • খ. সুকুমার সেন এই গ্রন্থকে কতকটার ডিকেন্সের ‘পিকউইক পেপার্স ’ – এর মতো চিএোপন্যাস বলেছেন। 
আরো পড়ুন--  অশনি সংকেত ১৯৫৯ খ্রি.

বিষয়বস্তু

  • অষ্টাদশ শতাব্দীর শেষ ভাগ এবং ঊনবিংশ শতাব্দীর গোড়ার দিকের কলকাতা ও শহরতলীর চিত্র এই উপন্যাসের বিষয়বস্তু। 
  • তৎকালীন কলকাতার নগর জীবনের ব্যভিচার, শিক্ষাদীক্ষার সজীব চিত্র তথা কলকাতার সমকালীন শিক্ষাবিভ্রাটের পরিচয় প্যারীচাঁদ নৈপুণ্যের সঙ্গে বর্ণনা করেছেন।  যেমন – “ প্রত্যেক ক্লাসের প্রত্যেক বালকের প্রতি সমান তদারক হইত না – ভারি ভারি বহি পরিবার অগ্রে সহজ সহজ বহি ভাল রূপে বুঝিতে পারে কিনা। তাহার অনুসন্ধান হইতো না… ।” 

বিশেষত্ব

  • উপন্যাসটিতে প্রথম চলিত-ঘেঁষা আধা-সাধুভাষার পরিচয় রয়েছে।
  • মধ্যবিত্ত জীবনের চরিত্র যেমন বাবুরাম বাবু, ঠকচাচা,বাঞ্ছারাম,মতিলাল প্রভূতি ব্যক্তি-বৈশিষ্ট্য আমাদের মুগ্ধ করে। 
  • অষ্টাদশ শতকের শেষ দিকে নাগর জীবনের উচ্ছৃঙ্খলতা ও অধ:পতিত সমাজের চিত্রই প্যারীচাঁদ এই গ্রন্থে অঙ্কন করেছেন। 
  • নীতিকথা প্রচারে করতে লেখক বরদা বাবু, রামলাল ও বেণী বাবু প্রভূতি প্রতীকী চরিত্রগুলি চরিত্র গুলির অবতারণা করেছেন। 
  • ভাষারীতি :     মধুসূদন আলালি ভাষার প্রশংসা করে বলেছেন – “তিনি প্রথম দেখাইলেন যে, সাহিত্যের দ্বারা বাঙ্গালাদেশকে উন্নত করিতে হয়,  তবে বাঙ্গালা দেশের কথা লইয়াই সাহিত্য করিতে হইবে। ” 
আরো পড়ুন--  মন্মথ রায়ের 'কারাগার' 1930

ভাষারীতির নমুনা

“ বাবুরাম বাবু চৌগোপপা – নাকে তিলক– কস্তা পেরে ধুতি পরা – ফুল পুকুরে জুতা পায় –উদারটি গনেশের মতো – কোচান চাদর খানি কাঁধে –একগাল পান – ইতস্তত : বেড়াইয়া চাকরকে বলেছেন, –‘ওরে হরে!  শীঘ্র বালি যাইতে হইবে, দুই চার পয়সার একখানা চলতি পানসি ভাড়া কর তো ’।”


Similar Posts

  • আধুনিক-যুগ · পত্র-পত্রিকা · সাহিত্য-টীকা-আধুনিক

    দিগদর্শন পত্রিকা 1818

    দিগ্‌দর্শন পত্রিকা ১৮১৮         আবির্ভাব/প্রকাশকালঃ এপ্রিল, ১৮১৮। সম্পাদক।   পরিচিতি : বাংলা ভাষায় প্রথম প্রকাশিত পত্রিকা দিগদর্শন। এটি একটি মাসিক পত্রিকা। শ্রীরামপুর মিশন থেকে প্রকাশিত হত পত্রিকাটি। সম্পাদক ছিলেন জন ক্লার্ক মার্শম্যান।   সমাজ ও সংস্কৃতিতে গুরুত্ব/অবদান :  পত্রিকাটির বিশেষ গুরুত্ব এই যে, এটি ‘যুবালোকের কারণ সংগৃহীত নানা উপদেশ ও তথ্যে সমৃদ্ধ’…

  • সাহিত্য-টীকা-মধ্যযুগ · অন্নদামঙ্গল · মঙ্গলকাব্য · সাহিত্য টীকা

    অন্নদামঙ্গল ১৭৫১ খ্রি.

    অন্নদামঙ্গল ১৭৫১ খ্রি. কবি = রায়গুণাকর ভারতচন্দ্র। প্রকৃতি = মঙ্গলকাব্য বিষয়ক গ্রন্থ। বিভাগ = অন্নদামঙ্গলের কাহিনি তিন খণ্ডে বিভক্ত-(১) অন্নদামঙ্গল বা পৌরাণিক লৌকিক অংশ, (খ) অন্নপূর্ণা বা মানসিংহ, (গ) কালিকামঙ্গল বা বিদ্যাসুন্দর। প্রথম খন্ডে হরপার্বতী, ব্যাসদেব, হরিহোড় বা ভবানন্দের সঙ্গে অন্নদার দেবমাহাত্ম্যমূলক কাহিনি। দ্বিতীয় খণ্ডে ভবানন্দ-মানসিংহ এবং প্রতাপাদিত্যের ঐতিহাসিক কাহিনি বর্ণিত হয়েছে এবং তৃতীয় খণ্ডে…

  • সাহিত্য-টীকা-প্রাচীন · সূচনা

    প্রকীর্ণ শ্লোক ও সংকলন গ্রন্থ

    প্রকীর্ণ শ্লোক ও সংকলন গ্রন্থ মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে বাঙালির সংস্কৃতচর্চার কথা অবান্তর হলেও আদিযুগের উন্মেষ পর্বের বাংলা সাহিত্যের আলোচনায় বাঙালির সংস্কৃত এবং অপভ্রংশ ভাষার রচনাগুলিকেও অন্তর্ভুক্ত করা যায়। মহাকাব্য, আখ্যানকাব্য এবং রসহীন পাণ্ডিত্যপূর্ণ কাব্য সেকালের বাঙালির তেমন রুচিকর ছিল না। ছোট ছোট সংস্কৃত কবিতা বা প্রকীর্ণ শ্লোক এবং অপভ্রংশ ভাষায় রচিত পদ বাঙালির প্রিয়…

  • কাব্য কবিতা

    ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত ১৮১২-১৮৫৯

    ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত ১৮১২-১৮৫৯) ঊনবিংশ শতাব্দীর প্রথমার্ধ তথা ভারতচন্দ্রের মৃত্যুর পর তেমন কোন পালাবদলের ইঙ্গিত বাংলা কাব্যসাহিত্যে ফুটে ওঠেনি। ভারতচন্দ্রীয় আদিরসের ফেনিল উচ্ছ্বাস, আর কবিওয়ালাদের উচ্চকিত উল্লাস বাংলা সাহিত্যে শুধুমাত্র সামান্য পরিবর্তনের রেশ এনেছিল। তারপর রঙ্গলাল এসে ঊনবিংশ শতাব্দীর দ্বিতীয়ার্ধে সর্বপ্রথম নতুন কাব্যবস্তুর নান্দীপাঠ করলেন। মধুসূদন নতুন নতুন কুশীলব নিয়ে শুরু করলেন তাঁর রচনা। সেই সময়…

  • আধুনিক-যুগ · পত্র-পত্রিকা · সাহিত্য-টীকা-আধুনিক

    সম্বাদ প্রভাকর 1831

    সম্বাদ প্রভাকর ১৮৩১             সম্পাদক, প্রকাশকাল/আবির্ভাব :  সাপ্তাহিক ‘সম্বাদ প্রভাকর’ ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের সম্পাদনায় ১৮৩১ খ্রিস্টাব্দের ২৮শে জানুয়ারি প্রথম প্রকাশিত হয়। ১৮৫৩ খ্রিস্টাব্দে ‘সম্বাদ প্রভাকরে’র মাসিক সংস্করণ প্রকাশিত হয়। শেষ পর্যন্ত ‘সম্বাদ প্রভাকর’ সাপ্তাহিক, মাসিক এবং দৈনিক প্রকাশিত হতে থাকে।   পরিচিতি:  ‘সম্বাদ প্রভাকর’ সপ্তাহে তিনবার প্রকাশিত হয়। এই পত্রিকা প্রথম…

  • মঙ্গলকাব্য · মধ্যযুগ · সাহিত্য-টীকা-মধ্যযুগ

    জাগরণ পালা, সাহিত্য টীকা

    জাগরণ পালা | সাহিত্য টীকা     সারারাত জেগে নৃত্যগীতের যে অনুষ্ঠান করা হত, মধ্যযুগের বঙ্গদেশে সাধারণত তাকেই ‘জাগরণ’ বা ‘জাগের গান’ বলা হতো। এই জাতীয় গানের মধ্যে উত্তরবঙ্গের ধামালী গান এবং ঝুমুর গানের নাম উল্লেখ করা যায়। এই গানগুলির যে অংশ গভীর রাতে না ঘুমিয়ে পড়ে ভোর পর্যন্ত গাওয়া হতো, তাকেই বলা হতো জাগরণ…