আধুনিক-যুগ পত্র-পত্রিকা সাহিত্য-টীকা-আধুনিক

সম্বাদ প্রভাকর 1831

সম্বাদ প্রভাকর ১৮৩১

 
 
 
 
 
 
সম্পাদক, প্রকাশকাল/আবির্ভাব : 
সাপ্তাহিক ‘সম্বাদ প্রভাকর’ ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের সম্পাদনায় ১৮৩১ খ্রিস্টাব্দের ২৮শে জানুয়ারি প্রথম প্রকাশিত হয়। ১৮৫৩ খ্রিস্টাব্দে ‘সম্বাদ প্রভাকরে’র মাসিক সংস্করণ প্রকাশিত হয়। শেষ পর্যন্ত ‘সম্বাদ প্রভাকর’ সাপ্তাহিক, মাসিক এবং দৈনিক প্রকাশিত হতে থাকে।
 
পরিচিতি: 
‘সম্বাদ প্রভাকর’ সপ্তাহে তিনবার প্রকাশিত হয়। এই পত্রিকা প্রথম বাঙালি সাংস্কৃতিক জীবনের প্রতীক হয়ে উঠেছিল। কলকাতার নবীন ও প্রবীণ উভয় দলই এই পত্রিকার পৃষ্ঠপোষক ছিলেন। সহায়সম্বলহীন ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত ছিলেন এই পত্রিকার সম্পাদক।
 
অবদান/গুরুত্ব : 
এই পত্রিকা বাঙালিকে নানাভাবে প্রভাবিত করেছে। কেননা ‘সম্বাদ প্রভাকর’ প্রাচীন ও নবীন উভয় সমাজের মধ্যে সংযোজকের কাজ করেছে, যেখানে ‘সমাচার চন্দ্রিকা’ ও শেষের দিকে ‘সম্বাদ কৌমুদী’ ছিল পুরাতনপন্থী সমাজের প্রতিভূ। এটি বাংলার প্রথম পত্রিকা যাতে সাহিত্য রচনার বিশেষ প্রাধান্য ছিল। এতে ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের লেখকগোষ্ঠীর নবীন শিষ্যদের অনেকেই প্রবন্ধ ও কবিতা লিখতেন
এবং ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত তাদের উৎসাহিত করতেন। ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত যুগের বাণীকে উপলব্ধি করতে পেরেছিলেন। তাই তাঁর পত্রিকা হয়ে উঠেছিল যুগোচিত। সংবাদ, রাজনৈতিক মন্তব্য, ইংরেজ শাসনের সমালোচনায় ও আধুনিক শিক্ষাপ্রচারে ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত যথেষ্ট মনোবলের পরিচয় দিয়েছিলেন। বাংলাদেশ, সমাজ, ধর্ম, দীক্ষা, সাহিত্যসংক্রান্ত বুদ্ধিদীপ্ত আলোচনা তাঁর পত্রিকাতেই প্রথম প্রকাশিত হয়। তাই তাঁকে ‘বাংলা বার্তাজীবীদের গুরু’ বলা হয়।
 
ভাষার দৃষ্টান্ত : 
ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত নিজে সাংবাদিক হওয়ায় ভাষার মধ্যে সাংবাদিকতার ছাপ যথেষ্ট। যেমন—“এদেশে বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপিত হইবার যে কল্পনা স্থির হইয়াছে। তাহা অতি উত্তম। ইংল্যান্ড দেশে যে সমস্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে যে প্রকার অঙ্কের শিক্ষা হয়ে থাকে এদেশীয় লোক তাহার কোন বিষয়েই শিক্ষা করিতে অক্ষম নহে।”
 
 
 
 
 
 
 
সাহায্য: দেবেশকুমার আচার্য

Similar Posts

  • চৈতন্য-চরিত-সাহিত্য · মধ্যযুগ · সাহিত্য-টীকা-মধ্যযুগ

    ভক্তিরত্নাকর, নরহরি চক্রবর্তী

    ভক্তিরত্নাকর | নরহরি চক্রবর্তী   দুই নামে একই ব্যক্তি বৈষ্ণবধর্মের সমাজ ও সংস্কৃতির ঐতিহাসিক উপাদান গ্রন্থরূপে ভক্তিবাকর এক স্মরণীয় রচনা। পঞ্চাদশ তরঙ্গে বিভক্ত এই গ্রন্থের বিষয় ষোড়শ থেকে অষ্টাদশ পর্যন্ত দু’শ বছরের বৈষ্ণব সমাজ ও সম্প্রদায়ের বিবরণদান। তার মধ্যে আবার পঞ্চম তরঙ্গে আছে মার্গ সঙ্গীতের বিশেষ উপস্থাপনা। গ্রন্থকার নরহরি চক্রবর্তী ও ঘনশ্যাম দাস নামে একই…

  • আধুনিক-যুগ · পত্র-পত্রিকা · সাহিত্য-টীকা-আধুনিক

    সমাচার চন্দ্রিকা 1822

    সমাচার চন্দ্রিকা ১৮২২   প্রকাশকাল/আবির্ভাব রামমোহনের হিন্দুধর্ম ও সমাজ সম্বন্ধে অতিশয় আধুনিক ও প্রগতিশীল মতের সঙ্গে কিছু রক্ষণশীল স্বভাব ভবানীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায় তাল মিলিয়ে চলতে না পারার ফলে দু’জনের মতভেদ হয়ে গেল। রামমোহনের সঙ্গ এবং ‘সম্বাদ কৌমুদী’র সংস্পর্শ ত্যাগ করে ভবানীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায় ১৮২২ সালে ‘সমাচার চন্দ্রিকা নামে সুপ্রসিদ্ধ পত্রিকা বার করেন।  আরো পড়ুন–  সোমপ্রকাশ পত্রিকা 1858সম্পাদক/পরিচিতি ‘সমাচার…

  • আধুনিক-যুগ · পত্র-পত্রিকা · সাহিত্য-টীকা-আধুনিক

    সবুজ পত্র 1914

    সবুজ পত্র ১৯১৪   আবির্ভাব ১৯১৪ খ্রিস্টাব্দে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় ইউরোপে ভ্রমণ শেষে রবীন্দ্রনাথের আশাবাদী-কল্যাণবাদী মন যুদ্ধের মধ্যেই প্রত্যাশা করেছিলেন শুভ প্রভাতের সম্ভাবনা। যুদ্ধ তাঁর কাছে জড়তা ও অশুভ অন্ধকার থেকে মুক্তির বার্তা নিয়ে এসেছিল। রবীন্দ্রনাথ ইউরোপ-আমেরিকা ভ্রমণপর্বে ‘গীতাগুলি’র (১৯১০ খ্রিঃ) বাণী ও ভারতীয় অধ্যাত্মবাদের বার্তা পৌঁছে দিয়েছেন। তাই রবীন্দ্রনাথ তাঁর ‘সাধনা’ প্রকাশের মতোই প্রমথ…

  • আধুনিক-যুগ · পত্র-পত্রিকা · সাহিত্য-টীকা-আধুনিক

    সোমপ্রকাশ পত্রিকা 1858

    সোমপ্রকাশ পত্রিকা ১৮৫৮       সোমপ্রকাশ আবির্ভাব :  ১৮৫৮ খ্রিস্টাব্দের ১৫ই নভেম্বর এই পত্রিকা সাপ্তাহিক পত্রিকা হিসাবে প্রথম আত্মপ্রকাশ করে।   পরিচিতি :  দ্বারকানাথ বিদ্যাভূষণের সম্পাদনায় সোমপ্রকাশ পত্রিকা প্রথম প্রকাশিত হয়। তারপর মোহনলাল বিদ্যাবাগীশের হাতে সম্পাদনার ভার দেন এবং শেষের দিকে তাঁর পুত্র উপেন্দ্রকুমার “নবপর্যায় সোমপ্রকাশ” সম্পাদনা করতেন। মাঝে কাবুলে ব্রিটিশ নীতির বিরুদ্ধাচরণ করার…

  • আধুনিক-যুগ · কথাসাহিত্য · সাহিত্য টীকা · সাহিত্য-টীকা-আধুনিক

    কমলাকান্তের দপ্তর 1875

    কমলাকান্তের দপ্তর 1875 : বঙ্কিমচন্দ্রের কমলাকান্তের দপ্তুর রচনা সম্পর্কে টীকা। কমলাকান্তের দপ্তর 1875 লেখক : বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়। প্রকৃতি : মননশীল প্রবন্ধ । ‘কমলাকান্তের দপ্তর ’ একটি বিশিষ্ট মননশীল প্রবন্ধ।  বক্তব্য : কমলাকান্ত চক্রবর্তী নামে এক বৃদ্ধ ব্রাহ্মণ প্রসন্ন গোয়ালিনীর দধি -দুগ্ধে প্রতিপালিত হয়ে নাসিরামবাবু প্রদত্ত আফিং বটিকা সেবন করে এবং যএতএ ঘুরে বেড়িয়ে জীবনের যে অভিজ্ঞতা ও উপলব্ধি…

  • আধুনিক-যুগ · পত্র-পত্রিকা · সাহিত্য-টীকা-আধুনিক

    দিগদর্শন পত্রিকা 1818

    দিগ্‌দর্শন পত্রিকা ১৮১৮         আবির্ভাব/প্রকাশকালঃ এপ্রিল, ১৮১৮। সম্পাদক।   পরিচিতি : বাংলা ভাষায় প্রথম প্রকাশিত পত্রিকা দিগদর্শন। এটি একটি মাসিক পত্রিকা। শ্রীরামপুর মিশন থেকে প্রকাশিত হত পত্রিকাটি। সম্পাদক ছিলেন জন ক্লার্ক মার্শম্যান।   সমাজ ও সংস্কৃতিতে গুরুত্ব/অবদান :  পত্রিকাটির বিশেষ গুরুত্ব এই যে, এটি ‘যুবালোকের কারণ সংগৃহীত নানা উপদেশ ও তথ্যে সমৃদ্ধ’…