আধুনিক-যুগ পত্র-পত্রিকা সাহিত্য-টীকা-আধুনিক

সম্বাদ কৌমুদী 1821

সম্বাদ কৌমুদী ১৮২১

 
 
 
 
প্রকাশকাল/আবির্ভাব : 
সমাচার দর্পণে প্রায়ই হিন্দুধর্ম ও সমাজকে অকারণে গালিগালাজ করা হত। এর প্রতিবিধান করবার জন্য ১৮২১ সালের ৪ঠা ডিসেম্বর রাজা রামমোহন রায় ও ভবানীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায় ‘সম্বাদ কৌমুদী’ পত্রিকাটি প্রকাশ করে ‘সমাচার দর্পণে’ প্রকাশিত মিশনারীদের হিন্দুধর্মের প্রতি আক্রমণের যথোপযুক্ত জবাব দেন।
 
সম্পাদক/পরিচিতি : 
সম্বাদ কৌমুদীর প্রথম সম্পাদক ছিলেন ভবানীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়। পত্রিকাটি ছিল সাপ্তাহিক পত্রিকা। 
 
পত্রিকা প্রকাশের উদ্দেশ্য : 
লোকহিত সাধনই ছিল এই সংবাদপত্র প্রচারের প্রধান লক্ষ্য। সম্বাদ কৌমুদী প্রগতি ও যুক্তিমার্গ অবলম্বন করেছিল।
 
লেখকগোষ্ঠী: 
রামমোহন রায়, ভবানীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায় ও তারাচাঁদ দত্ত। 
 
অবদান/গুরুত্ব :
উনিশ শতকীয় রেনেশাঁসের প্রথম পুরোধা রামমোহন রায় এই পত্রিকার সঙ্গে যুক্ত হয়ে তাঁর উদার দৃষ্টিভঙ্গি এবং যুক্তিনিষ্ঠ মনের দ্বারা একদিকে প্রাচীনপন্থী পণ্ডিতদের অন্ধ কুসংস্কারের তীব্র সমালোচনা করতে লাগলেন এবং অপরদিকে শাস্ত্ৰ ব্যাখ্যার দ্বারা শ্রীরামপুরের পাদ্রীদের সঙ্গে বিতর্ক শুরু করলেন। এদিক থেকে সম্বাদ কৌমুদী পত্রিকা খুবই উল্লেখযোগ্য। বিশেষ করে সমাচার দর্পণের হিন্দু-বিরোধী অপপ্রচার রোধ করবার জন্য এর ভূমিকা অনস্বীকার্য।
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
সাহায্য : দেবেশকুমার আচার্য

Similar Posts

  • প্রাচীনযুগ · সাহিত্য-টীকা-প্রাচীন

    চর্যাপদের রচনাকাল

    চর্যাপদ বা চর্যাগান কিংবা চর্যাগীতি হলো বাংলা ভাষার আদিতম নিদর্শন। এখন এই পদ বা গানগুলির রচনাকাল নিয়ে নানা ধোঁয়াশা থাকবে তা স্বাভাবিক। এই লেখায় চর্যাপদের রচনাকাল সম্বন্ধে সাধারণ কিছু কথা তুলে ধরা হয়েছে। চর্যাপদের রচনাকাল বা চর্যাগীতির রচনাকাল প্রাচীন বাংলাভাষার অদ্বিতীয় নিদর্শন চর্যাপদ শুধু  ভাষা এবং ধর্মের রহস্যইসূচীভেদ্য নয়, তার রচনাকালও সংশয়ান্বিত। ভাষাতত্ত্বের দুই প্রতিনিধিস্থানীয়…

  • আধুনিক-যুগ · গদ্যের-সূচনা

    মিশনারীদের প্রচেষ্টায় বাংলা গদ্য

      পোর্তুগীজ মিশন   ইউরোপীয় জাতিগুলির মধ্যে পর্তুগীজদের সঙ্গেই বাংলাদেশের প্রথম সম্পর্ক স্থাপিত হয়। খ্রিস্টধর্ম প্রচার করতে গিয়ে তারা বাংলা ভাষা শিখে বাংলায় বই লেখা প্রয়োজনীয় বলে বোধ করতে লাগলেন। সপ্তদশ শতকেই যে এ জাতীয় গদ্য রচনার আবির্ভাব ঘটেছিল তার পরোক্ষ প্রমাণ আছে। অষ্টাদশ শতাব্দীতে রচিত কিছু বই পাওয়া গিয়েছে।   ১. দোম আন্তোনিও রচিত…

  • গদ্যের-বিকাশ

    বাংলা সাহিত্যে রামমোহন রায় 1774-1833 খ্রি.

    ‘ভারতের প্রথম আধুনিক মানুষ’, ‘ভারতপথিক’ ইত্যাদি অভিধায় ভূষিত হয়ে থাকেন রাজা রামমোহন রায়। ভারত ইতিহাসের নবজাগরণ পর্বের শুকতারা রামমোহন রায়ের ঐতিহাসিক গুরুত্ব বাংলা সাহিত্যের সঙ্গেও সংপৃক্ত হয়ে গেছে। বাংলা সাহিত্যে তাঁর কৃতিত্ব কতখানি সেই বিষয়ক ক্ষুদ্র একটি আলোচনা। বাংলা সাহিত্যে রামমোহন রায় 1774-1833 খ্রি. পাণ্ডিত্য, ব্যক্তিত্ব এবং কর্মক্ষমতার সার্থক সমন্বয় হয়েছে রামমোহনের চরিত্রে। সংস্কৃত, ফারসি, ইংরেজি, উর্দু ও বাংলা…

  • আধুনিক-যুগ · কথাসাহিত্য · সাহিত্য টীকা · সাহিত্য-টীকা-আধুনিক

    ঐতিহাসিক উপন্যাস 1857, ভূদেব মুখোপাধ্যায়

    ঐতিহাসিক উপন্যাস 1857 : ভূদেব মুখোপাধ্যায়ের ঐতিহাসিক কাহিনির সংকলন। দুটি কাহিনির সংকলন এই গ্রন্থটি। ঐতিহাসিক উপন্যাস 1857, ভূদেব মুখোপাধ্যায় [ক] ঐতিহাসিক উপন্যাস সংকলনের রচয়িতা ভূদেব মুখোপাধ্যায়।  [খ] প্রকৃতি = উপন্যাস।  [গ] ইতিহাসকে অবলম্বন করে ঐতিহাসিক কাহিনীর ওপর ভিত্তি করে আলোচ্য উপন্যাসটি রচিত।  [ঘ] কণ্টারের লেখা ঐতিহাসিক গাল-গল্প সম্মলিত ‘Romance of History’-এর কাহিনীর উপর ভিত্তি করে…

  • আধুনিক-যুগ · গদ্যের-সূচনা

    উইলিয়াম কেরি (১৭৬১ – ১৮৩৪)

    উইলিয়াম কেরি (১৭৬১ – ১৮৩৪) বাংলা গদ্য সাহিত্যের ইতিহাসে কেরী সাহেবের অবদান বিশেষ উল্লেখযোগ্য। প্রথমে বাংলা গদ্য ভাষার চর্চা ধর্ম-প্রচারকরূপ লক্ষ্যের উপায় হিসেবে তিনি প্রহণ করেছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত উপায়ের গৌণ ভূমিকায় না থেকে লক্ষ্যের মুখ্য ভূমিকা সে অধিকার করে বসল। শ্রীরামপুর থেকে কেরি আগেই বাইবেলের বঙ্গানুবাদ প্রকাশ করেছিলেন। ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের বিভাগীয় প্রধান রূপে তিনি…

  • সাহিত্য-টীকা-মধ্যযুগ

    কড়চা কী সাহিত্যে কড়চা

    কড়চা   কোন বিষয়ে প্রশ্নের উত্তরে সংক্ষিপ্ত বিবরণ প্রদানকে ‘কড়চা’ বলে। এর আকার অত্যন্ত ক্ষুদ্র। উৎপত্তিগত অর্থ, কা-চা, র-ড;  তুল-পত্রপত্রিকা হতে পর্চা পাতড়া (তথ্য সূত্র : ‘বাঙ্গালা ভাষার অভিধান’ জ্ঞানেন্দ্রমোহন দাস, পৃষ্ঠা ৪১২)। অন্যমতে, কড়চা শব্দটির উৎস সম্ভবত ‘কারিকা’। ‘কারিকা’ অর্থে সংস্কৃত অভিধানে বলা হয়েছে ‘কারিকা বিবরণ শ্লোক’। কারিকাতু স্বল্পবৃত্তে বহোরহস্য সূচনম”। দিনলিপির (diary) আকারে…