আধুনিক-যুগ কথাসাহিত্য সাহিত্য টীকা সাহিত্য-টীকা-আধুনিক

কমলাকান্তের দপ্তর 1875

কমলাকান্তের দপ্তর 1875 : বঙ্কিমচন্দ্রের কমলাকান্তের দপ্তুর রচনা সম্পর্কে টীকা।

কমলাকান্তের দপ্তর 1875


লেখক : বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়।

প্রকৃতি : মননশীল প্রবন্ধ । ‘কমলাকান্তের দপ্তর ’ একটি বিশিষ্ট মননশীল প্রবন্ধ। 

বক্তব্য : কমলাকান্ত চক্রবর্তী নামে এক বৃদ্ধ ব্রাহ্মণ প্রসন্ন গোয়ালিনীর দধি -দুগ্ধে প্রতিপালিত হয়ে নাসিরামবাবু প্রদত্ত আফিং বটিকা সেবন করে এবং যএতএ ঘুরে বেড়িয়ে জীবনের যে অভিজ্ঞতা ও উপলব্ধি সংগ্রহ করেছিলেন সেগুলি ‘কমলাকান্তের দপ্তরে’ স্থান লাভ করেছে। বলা বাহুল্য এই কমলাকান্ত স্বয়ং বঙ্কিমচন্দ্র। 

আরো পড়ুন--  ইছামতী 1950, উপন্যাস, বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

কমলাকান্ত চরিত্রটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক। তিনি কমলাকান্তের ছদ্মবেশে বাঙালিকে তার নিজের কথাই শুনিয়েছেন। 

বঙ্কিমচন্দ্র নিজেও কমলাকান্তের দপ্তরকে সর্বশ্রেষ্ঠ গ্রন্থ মনে করতেন। কারণ এতে তার হৃদয়ের গোপন অনুভূতি এবং মনের কথা প্রকাশিত হয়েছে। 

সমালোচক ও ইংরেজি সাহিত্যিক ডি- কুইনসির ‘ কনফেশনস্ অফ অ্যান ইংলিশ ওপিয়াম ইটার  ’ গ্রন্থের অনুসরণে ‘কমলাকান্তের দপ্তর ’ রচিত। কিন্তু এই দুই গ্রন্থের মধ্যে সাদৃশ্যের চেয়ে বৈসাদৃশ্য বেশি। এটি তার মৌলিক এবং অনবদ্য নিখুঁত শিল্প সৃষ্টি। 

আরো পড়ুন--  কৃত্তিবাসের আবির্ভাব কাল, টীকা

গ্রন্থটিতে সরস পরিহাস, স্বদেশিকথা, প্রীতিতত্ত্ব,  খেয়ালি কল্পনার সঞ্চরণ ও আত্মোপলব্ধি রচনাটিতে বিশেষ মর্যাদা দিয়েছে।‘ বিড়াল ’  প্রবন্ধটির মধ্য কেউ কেউ সাম্যবোধের বাণী প্রকাশিত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন। 

‘কমলাকান্তের দপ্তরে’র ‘আমার মন’ বা ‘বিড়াল’ উপস্থাপনরীতিই প্রবন্ধের রসসম্ভোগের মূল চাবিকাঠি। 

প্রথম চৌধুরীর ‘ বীরবলের হালখাতা ’ ‘ কমলাকান্তের দপ্তরে’র প্রভাবজাত। কেননা বীর বলেন কেনোনা বীরবলের  বাগবৈদগ্ধ্য ও দৃষ্টিভঙ্গির ক্ষেত্রে হুতুমের প্রভাব যেমন রয়েছে তেমনি বঙ্কিমচন্দ্রের রচনায় শাণিত ব্যাঙ্গের যে প্রকাশ তার উৎস হল ‘ কমলাকান্তের দপ্তর ’। 

আরো পড়ুন--  আনন্দমঠ 1882, উপন্যাস, বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়

‘ কমলাকান্তের দপ্তর ’ -এর গদ্য রীতির মধ্য মাধুর্য এসেছে অসাধারণ কল্পনা শক্তি ও গীতিময়তার জন্য। যেমন – ‘ এসো মা! নবরাগরঙ্গিনি,নববলধারিণি,নবদর্পে দর্পিণি,নবস্বপ্নদর্শিনী  ’। ( ‘আমার দুর্গোৎসব ’) 


Similar Posts