সাহিত্য-টীকা-মধ্যযুগ অন্নদামঙ্গল মঙ্গলকাব্য সাহিত্য টীকা

অন্নদামঙ্গল ১৭৫১ খ্রি.

অন্নদামঙ্গল ১৭৫১ খ্রি.

কবি = রায়গুণাকর ভারতচন্দ্র।

প্রকৃতি = মঙ্গলকাব্য বিষয়ক গ্রন্থ।

বিভাগ = অন্নদামঙ্গলের কাহিনি তিন খণ্ডে বিভক্ত-(১) অন্নদামঙ্গল বা পৌরাণিক লৌকিক অংশ, (খ) অন্নপূর্ণা বা মানসিংহ, (গ) কালিকামঙ্গল বা বিদ্যাসুন্দর। প্রথম খন্ডে হরপার্বতী, ব্যাসদেব, হরিহোড় বা ভবানন্দের সঙ্গে অন্নদার দেবমাহাত্ম্যমূলক কাহিনি। দ্বিতীয় খণ্ডে ভবানন্দ-মানসিংহ এবং প্রতাপাদিত্যের ঐতিহাসিক কাহিনি বর্ণিত হয়েছে এবং তৃতীয় খণ্ডে বিদ্যার সঙ্গে সুন্দরের প্রেমোপাখ্যান ও কালিকার মাহাত্ম্য বর্ণিত হয়েছে।

আরো পড়ুন--  সম্বাদ কৌমুদী 1821

বিশেষ বৈশিষ্ট্য

++ মঙ্গলকাব্যের ধারায় ভারতচন্দ্রের এক নূতন মঙ্গল।

++ ড. সুকুমার সেনের মতে, “মুকুন্দরাম দেবতাকে মানুষ করিয়েছেন। ভারতচন্দ্র দেবতাকে নট করিয়েছেন।”

++ অন্নদামঙ্গলের মধ্য দিয়ে আধুনিক বাংলা সাহিত্যের শুভ সূচনা।

++ অষ্টাদশ শতাব্দীর অবক্ষয়ের চিত্র এই গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে।

++ বাক্-রীতির অভূতপূর্ব অন্ত্যানুপ্রাস অলংকারের নিপুণ প্রয়োগ। নানা প্রকার সংস্কৃতছন্দের বাংলা রূপান্তর, হাস্যকৌতুকের যথাবিহিত ব্যবহার প্রভৃতি উচ্চ কলানৈপুণ্যের পরিচয় অন্নদামঙ্গলে রয়েছে।

আরো পড়ুন--  কপালকুণ্ডলা 1866 খ্রি.

++ ভারতচন্দ্র ছিলেন রাজসভার কবি। তাই তাঁর কাব্যে জৌলুষ ও আড়ম্বর স্থান পেয়েছে। সমকালীন যুগধর্ম ও পরিবেশকে ভারতচন্দ্র ছাড়িয়ে উঠতে পারেননি।

++ ভারতচন্দ্রকে অনেকে বলে থাকেন রঙ্গব্যঙ্গের কবি। সে রঙ্গব্যঙ্গ হাস্যপরিহাসের পরিচয় অন্নদামঙ্গলের ছত্রে ছত্রে রয়েছে।

++ চরিত্রচিত্রণের ক্ষেত্রে বিশেষ করে হীরামালিনীর চরিত্র রূপায়ণে কবি বিশেষ পারদর্শিতা দেখিয়েছেন। সব মিলিয়ে ভারতচন্দ্রের অন্নদামঙ্গল মঙ্গলকাব্যধারায় এক স্বতন্ত্র মঙ্গলকাব্য।

আরো পড়ুন--  বারমাস্যা বা বারমাসী

++ ভারতচন্দ্রের কাব্য ‘রাজকন্ঠের মণিমালার মত’। – অন্নদামঙ্গল সম্পর্কে রবীন্দ্রনাথের এই অভিমত যথার্থ।

++ এই কাব্য যুগসন্ধির কাব্য।

Similar Posts

  • মহাভারত অনুবাদ · সাহিত্য-টীকা-মধ্যযুগ

    কবীন্দ্র পরমেশ্বর

    কবীন্দ্র পরমেশ্বর : মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে কবীন্দ্র পরমেশ্বর এক অবিস্মরণীয় নাম। কবীন্দ্র পরমেশ্বর: বাংলা মহাভারতের আদি রচয়িতা ## জীবনী ও রাজকীয় পৃষ্ঠপোষকতা কবীন্দ্র পরমেশ্বর ছিলেন মধ্যযুগের সেই বিরল কবিদের একজন, যাঁদের হাত ধরে হিন্দু মহাকাব্য মুসলিম রাজদরবারে সমাদৃত হয়েছিল। তিনি চট্টগ্রামের লস্কর বা শাসক পরাগ খাঁ-র সভাকবি ছিলেন। পরাগ খাঁ ছিলেন বাংলার সুলতান আলাউদ্দিন…

  • মধ্যযুগ · সাহিত্য-টীকা-মধ্যযুগ

    গঙ্গারামের মহারাষ্ট্র পুরাণ

    গঙ্গারামের মহারাষ্ট্র পুরাণ : প্রাগাধুনিক বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসের ক্ষেত্রে ঐতিহাসিক কাব্য বলতে যা বোঝায়, এই কাব্য কতকটা সেইরকম। গঙ্গারামের মহারাষ্ট্রপুরাণ  চৈতন্যচরিত সাহিত্যে তথ্যাশ্রয়ী যুগ-বীক্ষণের সূচনা হয়। কাব্যের মধ্যে সমকালীন ইতিহাসের প্রতিফলন দেখা গিয়েছিল তবু তা পূর্ণরূপ নয় পদক্ষেপ, পূর্ণাঙ্গ, কাহিনীর আশ্রয়ে নয়, অনুসঙ্গী ও সহায়িকার রূপে তা স্থান পায়। সেই রূঢ় বাস্তবের তাপ ও ইতিহাসের…

  • অন্নদামঙ্গল · মঙ্গলকাব্য · মধ্যযুগ

    ভারতচন্দ্রের রচনাবলী

    ভারতচন্দ্রের রচনাবলী   বাংলা সাহিত্যে ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর অতিপরিচিত কবি, অন্নদামঙ্গল কাব্যের একক রচয়িতা। তাঁর যেসব ভণিতা আমরা পাই তা হল—‘কবি রায়গুণাকর’, ‘দ্বিজ ভারত’, ‘ভারত ব্রাহ্মণ’ ইত্যাদি। তাঁর নামে প্রচলিত রচনাবলীর পরিচয় উল্লিখিত হল। সত্যপীরের কথা   কবির প্রথম রচনা দুটি হল সত্যপীরের পাঁচালি। একটি ত্রিপদী ছন্দে রচিত [এটির রচনাকাল জানা যায় না], অন্যটি চৌপদী ছন্দে…

  • আধুনিক-যুগ · পত্র-পত্রিকা · সাহিত্য-টীকা-আধুনিক

    শনিবারের চিঠি 1924

      শনিবারের চিঠি ১৯২৪       আবির্ভাব ২৬শে জুলাই ১৯২৪ বা ১০ই শ্রাবণ ১৩৩১-এ সাপ্তাহিক পত্রিকারূপে আত্মপ্রকাশ করে ‘শনিবারের চিঠি’। পরে ১৩৩৪ বঙ্গাব্দের ৯ই ভাদ্র নবপর্যায়ে মাসিক পত্রিকারূপে প্রকাশিত হয়।   সম্পাদক পরিচিতি ‘শনিবারের চিঠি’র সম্পাদক হলেন নীরদ চন্দ্র চৌধুরী। পত্রিকার প্রকৃত পরিচালক সজনীকান্ত এবং মোহিতলাল মজুমদার হলেন তাত্ত্বিক নেতা ও গুরু।  আরো পড়ুন– …

  • নাটক প্রহসন · সাহিত্য-টীকা-আধুনিক

    মন্মথ রায়ের ‘কারাগার’ 1930

    মন্মথ রায়ের ‘কারাগার’ 1930 : মন্মথ রায়ের ‘কারাগার’ (১৯৩০) নাটকটি বাংলা নাট্যসাহিত্যের ইতিহাসে এক অনন্য সংযোজন। পৌরাণিক আখ্যানের আড়ালে সমকালীন স্বদেশী আন্দোলন এবং ব্রিটিশ বিরোধী চেতনাকে তিনি যেভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন, তা অতুলনীয়। আপনার দেওয়া তথ্যগুলোর ওপর ভিত্তি করে লেখাটিকে একটি পূর্ণাঙ্গ ও সুন্দর প্রবন্ধ বা আলোচনার আকারে নিচে সাজিয়ে দেওয়া হলো: মন্মথ রায়ের ‘কারাগার’ 1930:…

  • সাহিত্য-টীকা-মধ্যযুগ

    কড়চা কী সাহিত্যে কড়চা

    কড়চা   কোন বিষয়ে প্রশ্নের উত্তরে সংক্ষিপ্ত বিবরণ প্রদানকে ‘কড়চা’ বলে। এর আকার অত্যন্ত ক্ষুদ্র। উৎপত্তিগত অর্থ, কা-চা, র-ড;  তুল-পত্রপত্রিকা হতে পর্চা পাতড়া (তথ্য সূত্র : ‘বাঙ্গালা ভাষার অভিধান’ জ্ঞানেন্দ্রমোহন দাস, পৃষ্ঠা ৪১২)। অন্যমতে, কড়চা শব্দটির উৎস সম্ভবত ‘কারিকা’। ‘কারিকা’ অর্থে সংস্কৃত অভিধানে বলা হয়েছে ‘কারিকা বিবরণ শ্লোক’। কারিকাতু স্বল্পবৃত্তে বহোরহস্য সূচনম”। দিনলিপির (diary) আকারে…