আধুনিক-যুগ কাব্য কবিতা সাহিত্য টীকা সাহিত্য-টীকা-আধুনিক

অগ্নিবীণা 1922, কাজী নজরুল ইসলাম 

অগ্নিবীণা 1922 : অগ্নিবীণা কাব্য সম্বন্ধে সাহিত্যিক টীকা সংক্ষেপে আলোচিত হলো।

অগ্নিবীণা 1922 খ্রি., কাজী নজরুল ইসলাম 


  • কাজী নজরুল ইসলামে প্রথম কাব্যগ্রন্থ হল ‘অগ্নিবীণা’। 
  • বিংশ শতকের প্রথম দুই দশকে ভারতবর্ষে নতুন জীবন, নতুন সম্ভাবনার অভিব্যক্তি ও দেশাত্মবোধ এই কাব্যগ্রন্থের কবিতাগুলিতে প্রকাশিত। ‘অগ্নিবীণা’ কাজী নজরুলের প্রথম ও প্রধান কাব্যগ্রন্থ।
আরো পড়ুন--  কবি চূড়ামণি দাসের কবি পরিচয়, গৌরাঙ্গবিজয় কাব্যের পরিচয়

কাব্য সম্বন্ধে

  • গ্রন্থটিতে মোট বারোটি কবিতা আছে। কবিতাগুলি হলো—প্রলয়োল্লাস, বিদ্রোহী, রক্তাম্বর ধারিণী মা, আগমনী, ধূমকেতু, কামাল পাশা, আনোয়ার, রণভেরী, শাত ইল্‌ আরব, খেয়াপারের তরণী, কোরবানী, মোহররম। এছাড়া একটি উৎসর্গ কবিতাও সংযুক্ত ছিল। 
  • বিপ্লবে বিশ্বাসী কাজী নজরুল গ্রন্থটি উৎসর্গ করেন বাংলার বিপ্লবী আন্দোলনের অন্যতম নেতা বারীন্দ্রকুমার ঘোষকে। স্বাভাবিকভাবেই কবির অন্তঃকরণে যে বিপ্লবী সত্তা জাগরুক ছিল তারই বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে আলোচ্য কাব্যের কবিতাগুলিতে। 
  • কবি নজরুল ‘অগ্নিবীণা’ গ্রন্থটির নাম রেখেছিলেন রবীন্দ্রনাথের গানের একটি চরণের অনুপ্রেরণায়। যথা— ‘অগ্নিবীণা বাজাও তুমি কেমন করে’।
আরো পড়ুন--  ভবানীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের 'কলিকাতা কমলালয়' 1823

গুরুত্বপূর্ণ দিক

  • ‘বিদ্রোহী’ কবিতার মাধ্যমে তাঁর এই কাব্য জনপ্রিয়তা লাভ করেন।
  • অসহযোগ ও খিলাফৎ আন্দোলন সম্বন্ধে তাঁর মনোভাব এই কাব্যে প্রত্যক্ষ করা যায়।
  • কাব্যগ্রন্থটির দ্বারা কবি ভারতে হিন্দু ও মুসলমানের মধ্যে দেশপ্রেমের উদ্দীপনা সঞ্চার করতে চেয়েছেন। কাব্যটির ভাষা শাণিত, বেগবান,সহজ,সরল ও বিষয়োপযোগী। 

Similar Posts

  • কথাসাহিত্য · সাহিত্য-টীকা-আধুনিক

    তারাশঙ্করের ‘কবি’ 1942

    তারাশঙ্করের ‘কবি’ 1942 : তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘কবি’ (১৯৪২) উপন্যাসটি বাংলা সাহিত্যের একটি অমূল্য সম্পদ। রাঢ় অঞ্চলের মাটি ও মানুষের জীবন যে কতটা কাব্যময় এবং একই সাথে যন্ত্রণাদায়ক হতে পারে, তার শ্রেষ্ঠ উদাহরণ এই উপন্যাসটি। তারাশঙ্করের ‘কবি’ 1942 : রাঢ়ের মৃত্তিকা ও এক মৃত্যুঞ্জয়ী প্রেমের আখ্যান ## প্রেক্ষাপট ও শৈল্পিক রূপান্তর তারাশঙ্করের ‘কবি’ উপন্যাসের সূচনা হয়েছিল…

  • চর্যাপদ · সাহিত্য-টীকা-প্রাচীন

    চর্যাপদের বহুমুখী গুরুত্ব

    চর্যাপদের বহুমুখী গুরুত্ব : বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে চর্যাপদ এক অনন্য ও অপরিহার্য স্তম্ভ। ১৯০৭ সালে হরপ্রসাদ শাস্ত্রী নেপাল রাজদরবার থেকে এটি আবিষ্কার করার পর বাংলা ভাষার প্রাচীনতা ও ঐতিহ্যের এক নতুন দুয়ার উন্মোচিত হয়। চর্যাপদের বহুমুখী গুরুত্ব: একটি বিশ্লেষণ চর্যাপদ কেবল বৌদ্ধ সহজিয়াদের সাধন-সংগীত নয়, এটি প্রাচীন বাংলার ভাষা, সমাজ এবং সাহিত্যের এক জীবন্ত দলিল।…

  • মহাভারত অনুবাদ · সাহিত্য-টীকা-মধ্যযুগ

     কাশীদাসী মহাভারত 

     কাশীদাসী মহাভারত : সংস্কৃত ভাষায় রচিত মহাভারত মহাকাব্যের বাংলায় অনুবাদ করার প্রথম সফল চেষ্টা লক্ষ করা যায় কাশিরাম দাসের কাব্যে অর্থাৎ ‘ভারত পাঁচালি’তে।  কাশীদাসী মহাভারত  জীবনী কাশীরামের  নিজের দেওয়া তথ্য এবং অন্যান্য তথ্যাদি থেকে তার ব্যক্তি পরিচয় জানা যায়। কাশীরাম দাস এর জন্ম বর্ধমানের ইন্দ্রানী পরগনার অন্তর্গত সিঙ্গি গ্রামে, কায়স্থ বংশে। তার পিতার নাম কমলাকান্ত। সপ্তদশ…

  • আধুনিক-যুগ · নাটক প্রহসন · সাহিত্য টীকা · সাহিত্য-টীকা-আধুনিক

    আলালের ঘরের দুলাল 1858, প্যারীচাঁদ মিত্র 

    আলালের ঘরের দুলাল 1858 : প্যারিচাঁদ মিত্রের আলালের ঘরের দুলাল নামক নকশাধর্মী রচনাটি অনেকক্ষেত্রেই বাংলায় রচিত প্রথম উপন্যাস হিসেবে পরিগণিত হয়। যদিও সার্থক উপন্যাস হিসেবে এটিকে গ্রহণ করা যায় না। আলালের ঘরের দুলাল 1858 (১৮৫৮ খ্রি:), প্যারীচাঁদ মিত্র  বিভিন্ন পরিচয় বিষয়বস্তু বিশেষত্ব ভাষারীতির নমুনা “ বাবুরাম বাবু চৌগোপপা – নাকে তিলক– কস্তা পেরে ধুতি পরা –…

  • মধ্যযুগ · সাহিত্য-টীকা-মধ্যযুগ

    গঙ্গারামের মহারাষ্ট্র পুরাণ

    গঙ্গারামের মহারাষ্ট্র পুরাণ : প্রাগাধুনিক বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসের ক্ষেত্রে ঐতিহাসিক কাব্য বলতে যা বোঝায়, এই কাব্য কতকটা সেইরকম। গঙ্গারামের মহারাষ্ট্রপুরাণ  চৈতন্যচরিত সাহিত্যে তথ্যাশ্রয়ী যুগ-বীক্ষণের সূচনা হয়। কাব্যের মধ্যে সমকালীন ইতিহাসের প্রতিফলন দেখা গিয়েছিল তবু তা পূর্ণরূপ নয় পদক্ষেপ, পূর্ণাঙ্গ, কাহিনীর আশ্রয়ে নয়, অনুসঙ্গী ও সহায়িকার রূপে তা স্থান পায়। সেই রূঢ় বাস্তবের তাপ ও ইতিহাসের…

  • আধুনিক-যুগ · পত্র-পত্রিকা · সাহিত্য-টীকা-আধুনিক

    সোমপ্রকাশ পত্রিকা 1858

    সোমপ্রকাশ পত্রিকা ১৮৫৮       সোমপ্রকাশ আবির্ভাব :  ১৮৫৮ খ্রিস্টাব্দের ১৫ই নভেম্বর এই পত্রিকা সাপ্তাহিক পত্রিকা হিসাবে প্রথম আত্মপ্রকাশ করে।   পরিচিতি :  দ্বারকানাথ বিদ্যাভূষণের সম্পাদনায় সোমপ্রকাশ পত্রিকা প্রথম প্রকাশিত হয়। তারপর মোহনলাল বিদ্যাবাগীশের হাতে সম্পাদনার ভার দেন এবং শেষের দিকে তাঁর পুত্র উপেন্দ্রকুমার “নবপর্যায় সোমপ্রকাশ” সম্পাদনা করতেন। মাঝে কাবুলে ব্রিটিশ নীতির বিরুদ্ধাচরণ করার…