চৈতন্য-চরিত-সাহিত্য বৈষ্ণব-সাহিত্য মধ্যযুগ

কবি লোচন দাস | পরিচয় | চৈতন্যমঙ্গল কাব্যের পরিচয়

কবি লোচনদাসের পরিচয় চৈতন্যমঙ্গল কাব্যের পরিচয় কবির প্রতিভা 


চৈতন্যমঙ্গল কাব্য 

নদীয়া-নাগর-ভাবেরউপাসক নরহরি ঠাকুরের স্তাবক কবি লোচনদাসের কাব্যটির নাম চৈতন্যমঙ্গলরাগরাগিণীর স্বরঝঙ্কারে এ কাব্যের কাহিনীপট ঝঙ্কৃত। ফলে জীবনী-কাব্যের আসরে এক গীতি-আলেখ্য রচনার প্রয়াস এখানে লক্ষ্যণীয়। তাই এখানে অধ্যায় পরিচ্ছেদ অনুপস্থিত। শুধুমাত্র সূত্রখণ্ড, আদিখণ্ড, মধ্যখণ্ড, শেষখণ্ড নামে চারিটি খণ্ড আছে।


চৈতন্যমঙ্গল কাব্যের কোন খণ্ডে কী আছে 

সূত্রখণ্ডের বিষয় অবতারের স্বরূপ-নির্ণয়, আদিখণ্ডে আছে গয়াগমন পর্যন্ত বর্ণনা, মধ্য খণ্ডে নীলাচলে বাসুদেব সার্বভৌমের প্রতি অনুগ্রহ প্রদর্শন, শেষখণ্ডে তীর্থযাত্রার বর্ণনা, প্রতাপকদ্রের প্রতি অনুগ্রহ, মহাপ্রভুর তিরোধানে হয়েছে কাব্যের পূর্ণচ্ছেদ।

আরো পড়ুন--  কবি চূড়ামণি দাসের কবি পরিচয়, গৌরাঙ্গবিজয় কাব্যের পরিচয়

কবি লোচনদাসের জন্মকাল জন্মস্থান 

লেখকের জন্মস্থান বর্ধমান জেলার কোগ্রাম। পিতা কমলাকরমাতা সদানন্দী। গ্রন্থরচনার কাল সংশয়াচ্ছন্ন। আনুমানিক ১৫৬০-১৬৭০ খ্রীস্টাব্দের মধ্যে লোচনের কাব্যটি রচিত হয়েছিল।

কবিত্বশক্তি

অসংখ্য খণ্ডবিচ্ছিন্ন মুহূর্তকে, জীবনের কথাকে জীবনীরসে সমৃদ্ধ করার মধ্যে লোচনের কবিত্ব-শক্তির পরিচয় পরিলক্ষিত হয়। যেমন, নির্বাসিত কামনার বেদনায় বিরহিণী বিষ্ণুপ্রিয়ার জীবনচ্ছবি মাত্র দুএকটি কথার মধ্য দিয়ে রেখায়িত হয়েছে :

আরো পড়ুন--  গঙ্গারামের মহারাষ্ট্র পুরাণ

হলুদ বাটিতে গোরি বসিলা যতনে

হলুদ বরণ গোরাচাদে পড়ে গেলা মনে।

তবু ইতিহাসাশ্রিত কবিতার দৃষ্টিভঙ্গী নিয়ে বিচার করলে লোচনদাসের গ্রন্থের ত্রুটি দৃষ্টি এড়ায় না। গৌড়নাগরী মতবাদকে সুপ্রতিষ্ঠিত করাই ছিল তাঁর ধ্রুব লক্ষ্য। তাই চৈতন্যজীবনের সার্থক ভাষ্যকার না হলেও ড. বিমানবিহারী মজুমদারের ভাষায়


বৈষ্ণব ধর্মের ইতিহাসে লোচনের গ্রন্থ খুব মূল্যবান, কেননা গৌড়ীয় বৈষ্ণবধর্মের একটি শাখার উপাসনা ও ভাব-সাধনা-প্রণালীর বিশদ ও অকৃত্রিম বিবরণ ইহাতে পাওয়া যায়।

আরো পড়ুন--  বৃন্দাবন দাস, কবি পরিচয়, চৈতন্যভাগবত কাব্যের পরিচয়






সাহায্য- পার্থ চট্টোপাধ্যায়

Similar Posts

  • মহাভারত অনুবাদ · সাহিত্য-টীকা-মধ্যযুগ

    কবীন্দ্র পরমেশ্বর

    কবীন্দ্র পরমেশ্বর : মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে কবীন্দ্র পরমেশ্বর এক অবিস্মরণীয় নাম। কবীন্দ্র পরমেশ্বর: বাংলা মহাভারতের আদি রচয়িতা ## জীবনী ও রাজকীয় পৃষ্ঠপোষকতা কবীন্দ্র পরমেশ্বর ছিলেন মধ্যযুগের সেই বিরল কবিদের একজন, যাঁদের হাত ধরে হিন্দু মহাকাব্য মুসলিম রাজদরবারে সমাদৃত হয়েছিল। তিনি চট্টগ্রামের লস্কর বা শাসক পরাগ খাঁ-র সভাকবি ছিলেন। পরাগ খাঁ ছিলেন বাংলার সুলতান আলাউদ্দিন…

  • চৈতন্য-চরিত-সাহিত্য · বৈষ্ণব-সাহিত্য · মধ্যযুগ

    বৃন্দাবন দাস, কবি পরিচয়, চৈতন্যভাগবত কাব্যের পরিচয়

    বৃন্দাবন দাস, কবি পরিচয়, চৈতন্যভাগবত কাব্যের পরিচয় প্রাথমিক পরিচয় (আনু. ১৫১৯ খ্রীঃ) :  বাংলা ভাষায় লেখা প্রথম চৈতন্যচরিত গ্রন্থ বৃন্দাবন দাসের ‘চৈতন্যভাগবত’। পরবর্তীকালে কোন কোন কাব্যে গ্রন্থটির নাম ‘চৈতন্যমঙ্গল’ও পাওয়া যায়। যেমন ‘প্রেমবিলাস’ কাব্যে এই গ্রন্থের নাম পরিবর্তন প্রসঙ্গে বলা হয়েছে : “বৃন্দাবন মহান্তেরা ভাগবত আখ্যা দিল।” বৃন্দাবন দাসের গ্রন্থে নবদ্বীপে বৈষ্ণব ধর্মের প্রচলিত রূপটি…

  • রামায়ণ-অনুবাদ

    কৃত্তিবাস ওঝা: আবির্ভাবকাল ও জীবনবৃত্তান্ত

    কৃত্তিবাস ওঝা: আবির্ভাবকাল ও জীবনবৃত্তান্ত : কৃত্তিবাস ওঝার আবির্ভাবকাল ও সংক্ষিপ্ত জীবনপরিচয় নিচে সুন্দরভাবে সাজিয়ে উপস্থাপন করা হলো: কৃত্তিবাস ওঝা: আবির্ভাবকাল ও জীবনবৃত্তান্ত বাংলা অনুবাদ সাহিত্যের আদি কবি কৃত্তিবাস ওঝা সম্পর্কে মাইকেল মধুসূদন দত্ত যথার্থই বলেছিলেন— “কৃত্তিবাস কীর্তিবাস কবি, এ বঙ্গের অলংকার”। তাঁর রচিত ‘শ্রীরামপাঁচালী’ বা ‘কৃত্তিবাসী রামায়ণ’ বাঙালি সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। ১. জন্ম ও…

  • জ্ঞানদাস

    কবি জ্ঞানদাস, 16শ শতকের কবি

    কবি জ্ঞানদাস, 16শ শতকের কবি, সাধারণ আলোচনা চৈতন্য-পরবর্তীকালের একজন সুবিখ্যাত বৈষ্ণব পদকর্তা জ্ঞানদাস। বৈষ্ণব পদাবলী সাহিত্যে বিদ্যাপতি, চণ্ডীদাস, জ্ঞানদাস ও গোবিন্দ দাস – এই চারজন কবিই প্রতিনিধি স্থানীয় কবি ও নিজ নিজ বৈশিষ্ট্যের অধিকারী। জ্ঞানদাসের জীবন সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তেমন কোনো আত্ম-পরিচয় তথ্য পাওয়া যায়নি। বর্ধমান জেলার কাটোয়ার নিকট কাঁদড়া গ্রামের এক ব্রাহ্মণ পরিবারে আনুমানিক ১৫৩০…

  • অন্যান্য বৈষ্ণবকবি

    বৈষ্ণব কবি রায়শেখর, 16শ শতকের কবি

    বৈষ্ণব কবি রায়শেখর, 16শ শতকের কবি, সাধারণ আলোচনা পরিচয় ষোড়শ শতকের শেষভাগে যে সকল পদকর্তা বর্তমান ছিলেন তাঁদের মধ্যে রায়শেখর অন্যতম। তিনি বৈষ্ণব পদাবলী ছাড়া ‘গোপাল বিজয়‘ নামক বাংলা কাব্য এবং একাধিক সংস্কৃত কাব্য রচনা করেন। গোপাল বিজয়ের আত্মপরিচয় দান প্রসঙ্গে কবি জানিয়েছেন যে, তাঁর পৈতৃক নাম দৈবকীনন্দন সিংহ, পিতার নাম চতুর্ভুজ, তিনি লিখেছেন –…

  • মঙ্গলকাব্য · মধ্যযুগ · মনসামঙ্গল · সাহিত্য-টীকা-মধ্যযুগ

    বাইশা বা বাইশ কবির মনসামঙ্গল

    বাইশা বা বাইশ কবি বহুশ্রুতি এবং বহুকবির চিন্তাচর্চায় মনসামঙ্গল কাব্যধারা বিকশিত হয়ে ওঠে। তবে দৈনন্দিন পূজা ও পাঠে ঘটে জনপ্রিয়তা এবং কাব্যের কোজাগরী প্রতিষ্ঠা লাভ হয় পূর্ববঙ্গে। কাব্যটিকে ভালোবাসার জন্য স্বভাবতই ভালো লাগার উপযোগী বিভিন্ন কবির রচিত পংক্তিগুচ্ছকে একটি সঙ্কলনের মাধ্যমে গ্রথিত করে একটি সম্মেলক কাব্য বা সঙ্গীত সংকলনের অস্তিত্ব থাকা ছিল খুব স্বাভাবিক ঘটনা।…